হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, নেপথ্যে লাজিনা ও তার চক্র
রংপুর প্রতিনিধিঃ
মিঠাপুকুরে এক কনফেকশনারির মালিককে হানিট্র্যাপের (প্রেমের ফাঁদ) জালে আটকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে মোছাঃ লাজিনা বেগম (২৩) নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। আড়াই লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণের নাটক সাজানো হয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, কথিত ওই ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপের ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মিঠাপুকুর থানার সামনে কনফেকশনারির মালিক মোঃ মিম (২৫)-কে দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট করে আসছিল লাজিনা বেগম। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে গত ০২ ও ০৩ জুলাই বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মিঠাপুকুরের কৃষ্ণপুর এলাকার একটি বাসায় নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেন।
পরে তার চক্রের সদস্যরা গিয়ে কথিত ধর্ষণের অভিযোগ তুলে মোটা অংকের চাঁদার প্রস্তাব দেন। স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন জানান, এটি কোনো ধর্ষণ বা প্রলোভনের ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুনিপুণ 'হানিট্র্যাপ'। ঘটনার পর লাজিনা ও তার চক্রটি ব্যবসায়ী মিমের পরিবারের কাছে ২,৫০,০০০ (আড়াই লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। মিম ও তার পরিবার এই অবৈধ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, লাজিনা থানায় গিয়ে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। এমনকি আমার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মব সৃষ্টি করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এজাহারে লাজিনা নিজেকে ক্লিনিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং অসহায় দাবি করলেও বাস্তবে তার জীবনযাপন অত্যন্ত বিতর্কিত। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, লাজিনা নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মারাত্মক মাদক সেবনে অভ্যস্ত।
মাদক চক্রের সাথে তার গভীর মেলামেশা রয়েছে। জীবিকার তাগিদে রংপুর শহরে থাকার কথা বললেও মূলত মাদক ব্যবসা ও ব্লাকমেইলিংই তার মূল পেশা। এমনকি এর আগে নিজের স্বামীকে তালাক দেওয়ার পেছনেও লাজিনার এই বেপরোয়া জীবনযাপন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দায়ী ছিল বলে জানা গেছে। "লাজিনা ও তার পরিবার এলাকায় ভালো প্রকৃতির মানুষ হিসেবে পরিচিত নয়। মিম একজন সরল সোজা ব্যবসায়ী। তাকে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই নারীর মূল উদ্দেশ্য। টাকা না পেয়ে এখন ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দিয়ে মিমের ক্যারিয়ার ও সম্মান নষ্ট করা হচ্ছে।" অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, লাজিনার এই সব অপকর্মের পেছনে তার মায়ের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে।
লাজিনার মায়ের বিরুদ্ধেও এলাকায় চাঁদাবাজি, প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ এবং অনৈতিক চক্র পরিচালনার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। মূলত মায়ের পুত্তলি হয়েই লাজিনা বিভিন্ন পুরুষকে টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। অভিযোগের বিষয়ে লাজিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে মিম বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করেছে। এখন বিয়ে না করে আমার অতীত নিয়ে অপবাদ দিচ্ছে। এবিষয়ে মিঠাপুকুর থানার (ওসি) মোঃ এরশাদ আহমেদ জানান, এঘটনায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। হানিট্র্যাপের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ জড়িত থাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স